Tuesday, July 12, 2011

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি ও মেধাপাচার


পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমরা প্রথম যেসব শিক্ষা পাই সেগুলো হলো 'বড় হতে হবে', 'মানুষের মতো মানুষ হতে হবে', 'দেশের সেবা করতে হবে' ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সেই সঙ্গে উপনিবেশিক সময়ে তৈরি করা 'লেখাপড়া করে যে গাড়ী-ঘোড়ায় চড়ে সে' বাক্যটি আত্মস্হ করে মুখস্হবিদ্যার প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এসব আদর্শিক নীতিকে বুকে লালন করে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করি। বিদ্যালয় থেকে কলেজ এরপর সেখান থেকে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে দেখতে পাই কিছু ছাত্র দেশকে ভালবাসার নামে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল অথবা বিরোধীদলের ছত্রছায়ায় মিছিল-সমাবেশ, হরতাল-ভাংচুর করার মধ্যে দিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে! যাদের বাবা-মা 'বড় হতে হবে' বলে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিল তারা এসব মিছিল আর ভাংচুর করা দেশপ্রেমীদের দেখে কিছুটা দ্বিধার মধ্যেই পড়ে যায়!

শুধু দ্বিধা না একই সঙ্গে তাদেরকে সহ্য করতে হয় রাজনীতি করা এসব দেশপ্রেমীদের (!) অত্যাচার। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের সময় এক দলের সমর্থক দ্বারা হতে হয় নির্যাতিত আর মাঝামাঝি অথবা বের হয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে সহ্য করতে হয় অন্য দলের সমর্থকদের অত্যাচার। কারন বাংলাদেশে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী ৫ বছরের মধ্যে পড়াশুনা শেষ করে বের হতে পারেনা। আর সে কারনেই ক্ষমতাও পরিবর্তিত হয়, অত্যাচার করা সমর্থকরাও হয়ে যায় পরিবর্তিত, শুধু অত্যাচারের ধরণটা থাকে অপরিবর্তিত। মিছিল-মিটিং, শ্লোগান, হরতাল-ভাংচুর, সেশনজ্যাম, শিক্ষকদের রাজনীতিপ্রেম প্রভৃতির গ্যাড়াকলে পড়ে কোনভাবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ করে রাজনীতি না করা ছেলে-মেয়ে গুলি। একই সঙ্গে তারা 'বড় হওয়ার' বিষয়টিও উপলব্ধি করতে পারে! বাবা-মা'র কথা তারা রাখতে পেরেছে, তারা সত্যিই অনেক বড় হয়েছে! ১৭/১৮ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ২৫/২৬ অথবা তার চেয়েও বেশি বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বের হতে পেরেছে!

এবারতো তাকে 'মানুষের মতো মানুষ' হতে হবে। আবারও গোলকধাঁধা; যে ছেলেগুলো পড়াশুনা না করে দিন-রাত মিছিল-মিটিং করেছিল, হরতাল করে ক্লাশ বন্ধ রেখেছিল তারা 'মানুষের মতো মানুষ' (!) হতে পেরেছে, মানে ভাল চাকরী পেয়ে গেছে। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে। কিন্তু সে কি করবে?? এসব ভাবনা-চিন্তা আর বাস্তবতার চাপে পড়ে একসময় দেখা যায় সরকারী চাকরিতে আবেদন করার বয়সটাও শেষের পথে। তারতো মামা-চাচা নেই যে ইচ্ছে করলেই মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বানাতে পারবে! বেকার হয়ে বসে থাকলেই বা চলবে কি করে? তার সহপাঠীরা যখন মামা-চাচার জোড়ে ভাল চাকরী করা শুরু করেছে তখন সে বেকার হয়ে বসে আছে! এই সামাজিক প্রতিকূলতা তাকে একসময় বাধ্য করে বিদেশমুখী হতে। ভাগ্যিস বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে মামা-চাচার জোড় লাগেনা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে এসে সে দেশ আর বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্হার পার্থক্যটা অনেক ভাল উপলব্ধি করতে পারে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন সেশনজ্যাম, নেই কোন মিছিল-মিটিং, নেই কোন রাজনৈতিক হাঙ্গামা, শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাশ নিয়ে সময়মতো রেজাল্ট দিয়ে দেন। পক্ষপাতিত্ব করে কোন শিক্ষক কাউকে কম বা বেশি নাম্বার দেননা।

আমি যে জায়গায় বসে লেখাটি লিখছি সেটা একটা পাঠাগার, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার। পাঠাগারের বয়স প্রায় ৩৫০ বছর, ১৬৬৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার যাত্রা শুরু করেছিল কিছু স্হাপনা নিয়ে, পাঠাগারটি সেসব স্হাপনার মধ্যে অন্যতম। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্হিত সুইডেন নামক একটা দেশের দক্ষিনাঞ্চলে, স্হানীয়ভাবে এ অঞ্চলকে বলা হয় স্কোনা (Skane)। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির নামানুসারে এই শহরটির নাম লু্‌ন্‌ড্‌ (Lund)। ঠিক কবে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী এখানে প্রথম এসেছিল সেটা সঠিকভাবে নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে অনুমাননির্ভর ধারণা থেকে বলা যায় ৩০ বছরের কম সময়তো নিশ্চয় নয়। বাংলাদেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ড ওয়াজেদ মিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকিছুদিন গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্ক্যান্ডিনেভিয়া পছন্দ করার অন্যতম কারন ছিল এদের শিক্ষা ব্যাবস্হা পুরোপুরি টিউশন ফি মুক্ত, যদিও ২০১১-২০১২ সেসন থেকে এখানে টিউশন ফি চালু হয়ে গেছে। আমাদের দেশ থেকে গত ৩০ বা ২০ বছরে কতজন শিক্ষার্থী এদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়েছে? গত দুই বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী, সংখ্যাটা কিন্তু শুধুমাত্র সুইডেনের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের। যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয়েই ১০০ জনের বেশী শিক্ষার্থী ২ বছরে ডিগ্রী নিয়ে থাকে তাহলে পুরো সুইডেনে সেসময়ের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ডিগ্রী নিয়েছে? যারা পড়াশুনা শেষ করেছে তারা এখন কোথায়? তারা এখন কি করছে? বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান কিউএস (QS) এর তালিকায় ২০১০ এ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্হান ছিল ৬৭ তে । ২০১১ তে অবশ্য ৭২ এ চলে এসেছে  (www.topuniversities.com)। অর্থ্যাৎ পৃথিবীর সেরা ৬৭ কিংবা ৭২ টি বিশ্ববিদ্যালের মধ্যে একটি হলো লুন্‌ড্‌ বিশ্ববিদ্যালয়, আর এই উঁচুমানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক দাপটের সঙ্গে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করে ভাল রেজাল্ট করছে, দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে মাষ্টার্স বা পি.এইচ.ডি করে বের হচ্ছে তারা । যারা পি.এইচ.ডি করছে তারা অনেকে দেশে ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত থাকা অবস্হা থেকে ছুটি নিয়ে এখানে আসে তাই প্রোগ্রাম শেষে দেশে ফিরতে তাদের কোন সমস্যা হয়না। যারা শুধু মাষ্টার্স প্রোগ্রামে এসেছে তাদের অবস্হাটা কি? আমি যখন এখানে পড়তে এসেছিলাম তখন সার্টিফিকেট অনুযায়ী আমার বয়স ছিল ২৯ বছর, আমি যখন মাষ্টার্স শেষ করব তখন বয়স হবে ৩১ বছর, অর্থ্যাৎ আমি সরকারী চাকুরীতে আবেদন করার সুযোগ পাবনা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে 'প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ' নামক একটি বিভাগ আছে অবশ্য। প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে যারা বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরবে তারা বয়সের কারনে এখানে আবেদন করার সুযোগ পাবে কিনা সেটা সঠিকভাবে আমার জানা নেই। অথবা নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেখানেই যে আমাকে নেয়া হবে তার নিশ্চয়তা কি কেউ কোনদিন দিতে পারবে?

মালয়েশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন সেদেশের সরকার আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ডিগ্রী নিয়ে ফেরা শিক্ষার্থীদেরকে দেশের কাজে লাগানোর জন্য কত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অথচ এই মালয়েশিয়া থেকে ৭০ বা ৮০'র দশকে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে পড়াশুনা করতে আসতো। আজ তারা কোথায় আর আমরা কোথায়?? ইউরোপ আর আমেরিকা থেকে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশুনা শেষ করেছে আমি জানতে চাই তারা এখন কোথায়? সরকার তাদেরকে দেশে ধরে রাখার জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে? জানতে চাই আমাদের সরকার তাদেরকে দেশের কাজে লাগানোর জন্য কি ব্যবস্হা গ্রহন করেছে? যে স্টুডেন্ট টি দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে খুব ভাল রেজাল্ট করার পরেও দেশে কোন কাজের সুযোগ পাচ্ছেনা, পায়নি এবং পাবেনা, তাহলে সে কি বেকার থেকে দেশপ্রেম চালিয়ে যাবে? তারা ডিগ্রী নেয়, ভাল রেজাল্ট করে, দেশেও ফেরে, কিন্তু পায়না কাজের সুযোগ! যাদের চাচা-মামা আছে শুধু তারাই কিছুটা ব্যাতিক্রম! এরপরেও এসব শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা শেষ করে স্বপ্ন দ্যাখে দেশে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু দেশ কি কখনো এই স্বপ্নচারীদের ধরে রাখার চেষ্টা করে?  যে ছেলেটা এখানে মাষ্টার্স-এ থিসিস করার সময় পেয়েছিল একটা মানসম্মত গবেষণাগার, তার গবেষণা করার কোন সুযোগ যদি তাকে না দেয়া হয় সে কেন দেশে থাকবে?  দেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় কি কখনো হিসাব করে দেখেছেন যে বিদেশ থেকে কত শিক্ষার্থী পড়াশুনা শেষ করে দেশে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করে?? এরপর ১ মাস, ২ মাস, ১ বছর এমনকি অনেকে ২/৩ বছর অপেক্ষা করার পরেও নিজের বিষয়ের উপরে কাজ করার সুযোগ না পেয়ে বিষন্ন হয়ে আবেদন করতে থাকে ইউরোপ বা আমেরিকার দেশগুলোতে হাই স্কিলড্‌ ইমিগ্রেশন এর জন্য অথবা  পি.এইচ.ডি'র জন্য, এরপর তারা চলে আসে দেশের বাহিরে, সেই চলে আসার ফেরাটা আর হয়ে ওঠেনা । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেছেন কি কখনও? মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী দেশকে ভালবেসে, দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে এতো হরতাল করছেন; কিন্তু মেধাপাচার ইস্যু নিয়ে হরতাল বা অবরোধ আহবান করেছেন কখনও?  

 রিফাত রহমান শাকিল

Monday, July 4, 2011

একজন মজিবর রহমান রবি ও আমাদের তরুন সমাজ
রিফাত রহমান শাকিল, সুইডেন থেকে

আজ থেকে ২৬ বছর আগের কথা। ১৯৮৫ সালে একজন লোক নাটক লিখতেন। লোকটা সুস্হ্য নন, পক্ষাগাত রোগে আক্রান্ত। হাত-পায়ের হাড় বেঁকে গেছে, লিখতে অনেক কষ্ট হয়, তবুও লেখেন, যা লেখেন তাই অস্বাভাবিক রকমের সুন্দর আর ঝকঝকে লাগে দেখতে। তার লেখাগুলো সুন্দর হয়ে ওঠার কারন দুটি । প্রথমত তার সুন্দর হাতের লেখা আর দ্বিতীয়ত সমাজের অস্হিরতাকে তিনি নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। আমি তখন মাত্রই ৫ বছরের একটা বাচ্চা; কিছুই বুঝিনা; কিন্তু সুন্দর হাতের লেখার ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম। সুযোগ পেলেই তার ঘরে ঢুকে তার লেখাগুলো দেখতাম । এই লোকটি আমার মেজ চাচা, মজিবর রহমান রবি, 'রবি' নামটা অবশ্য নিজের লাগানো, কারন তিনি রবিঠাকুরকে পছন্দ করতেন অনেক বেশী । আমার মেজ চাচা তার অসুস্হ্য শরীর নিয়ে শুধু নাটক বা কবিতাই লিখতেন না, ছবি আঁকতেন, ঘুড়ি বানাতেন । সেই ঘুড়িগুলো ২/১ টাকা করে পাড়ার ছেলেদের কাছে বিক্রি করতেন । কারন তার জীবিকা নির্বাহের কোন রাস্তা খোলা ছিলনা । মেজ চাচা ১৯৭০ সালে প্রথম বিভাগ নিয়ে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্টিক পাশ করে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন, এরপর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সেই কলেজ থেকেই ডিগ্রী পাশ করেন । ছাত্র হিসাবে মেধাবী থাকার কারনে পাশ করেই ব্যংকে চাকরী পেয়ে যান, কিন্তু তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ যে চাকরীতে যোগদান করার আগের রাতেই পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন । পা বাঁকা করে হাঁটতেন, তাই পাড়ার লোকজন তাকে বিদ্রুপ করে ন্যংড়া বলেও ডাকত । তিনি এসবকে ঘুনাক্ষরেও গুরুত্ব দিতেন না, বরং অসুস্হ্য হবার পরে লেখালেখি করার অনেক সুযোগ পেয়েছেন বলে তাকে আনন্দিতই মনে হতো !

শিল্প-সংস্কৃতিতে আমাদের রংপুর দীর্ঘদিন ধরেই একটা পরিচিত নাম, এই রংপুর জন্ম দিয়েছে অনেক গুনী সাহিত্যিক, নাট্যকার কে । মজিবর রহমান রবি তাদেরই একজন । যিনি তার শেষ জীবন কাটিয়েছেন মুন্সিপাড়ার একটা ভাঙ্গা ঘরে বাস করে, টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেননি, কিন্তু কখনই মানুষের কাছে হাত পাতেননি, নাটক মঞ্চায়ন করে বা নিজের বানানো ঘুড়ি বিক্রি যা পেতেন সেটা দিয়েই কষ্ট করে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতেন । পাড়ার ছেলেদের ব্যস্ত রাখতেন শিল্প চর্চার মাধ্যমে । প্রায় প্রতিবছর কেরামতিয়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজন করতেন নাটকের, আর তার নাটকের নির্দেশক হিসাবে থাকতেন তারই বন্ধু প্রাক্তন পৌরসভা চেয়ারম্যান জুন্‌নুন চাচা । নাটককে ঘিরে চলতো রিহার্সেল, পাড়ার তরুণ সমাজ অনেক উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে । বড় নাটক গুলো মঞ্চায়ন করা হতো টাউনহলে ।

২৬ বছর আগে যে রংপুরে নাটক নিয়ে পাড়ায় অনুষ্ঠান হতো কেমন আছে এখন সেই রংপুর? কেমন আছে রংপুরের তরুন সমাজ? যে রংপুরে একজন পঙ্গু লোক বেঁকে যাওয়া হাত দিয়ে নাটক লিখে তরুন সমাজকে খারাপ কাজ থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিল এখনও কি আমাদের প্রিয় রংপুর তেমনটাই আছে? আমার জানামতে রংপুরের কোন পাড়ায় এখন আর মঞ্চনাটক হয়না, নতুন প্রজন্ম ভাবতেই পারেনা যে তাদের আগের প্রজন্ম কতোবেশী প্রগতিশীল, আর শিল্প-সাহিত্যমনস্ক ছিল ! তরুণদের আজকের অবস্হার সব দায়ভার আমাদেরই । আমরা আমাদের স্বার্থে তরুনদের ভালকাজ থেকে দুরে সরিয়ে এনে বিষাক্ত রাজনীতির বেড়াজালে বন্দী করে রেখেছি, খেলার মাঠের বদলে তাদের হাতে তুলে দিয়েছি মাদকদ্রব্য, পাড়ার একটা ছেলে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে অথচ আমরা সচকিত নাগরিক সমাজ সেটা দেখেও না দেখার ভান করছি, নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কোন দায়িত্ব আমরা নিতে চাইনা।

মেজ চাচা ১৯৯১ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং সে বছরই ২১ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। এই অস্হির সময়টাতে মেজ চাচাকে খুব মনে পড়ে । আমাদের কিছু মজিবর রহমান রবি দরকার, শুধুমাত্র তারাই পারেন আবার আমাদের তরুন সমাজকে এই মহাবিপদের হাত থেকে উদ্ধার করতে । আমি রংপুরে একজন মজিবর রহমান রবির জন্য অপেক্ষা করছি ।

 e-mail: rifat218@gmail.com